ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যা মামলায় একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলাল আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালতের কার্যক্রম ও জবানবন্দি রেকর্ড
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মাজেদুল হক হেলালকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন জানান।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মামলার গতিপ্রকৃতি
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানার অন্তর্গত বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলির শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন শরিফ বিন ওসমান হাদি। এ ঘটনার পরপরই ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলার প্রেক্ষাপট বদলে যায়। ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ আগের দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন। অস্ত্র সরবরাহকারীর এই দায় স্বীকারের ফলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।