যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে এর জবাবে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক আঘাত হানতে পারে, এমন সতর্কতা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তবে স্থানীয় সময় সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন হামলার পর কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ছিল সম্পূর্ণ ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং এতে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা করার কোনো কথা ছিল না এবং কেউই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করেনি।
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো একেবারে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে। সোমবার একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর যে পাল্টা আঘাত আসতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগের গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইরান নিশ্চিতভাবেই পাল্টা হামলা চালাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া না হলেও, সম্ভাব্য ফলাফলের তালিকায় এই হামলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এছাড়া আরও দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও প্রেসিডেন্টকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে অমিল থাকা এমন মন্তব্য অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোরালো দাবি করা হয়েছিল, যার সপক্ষে পেন্টাগনের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরান শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলবে এবং দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক বোমা বানিয়ে তা ব্যবহার করবে বলে প্রশাসন দাবি করলেও, বাস্তব গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।