• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
Headline
ওসমান হাদি হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার করলেন অস্ত্র সরবরাহকারী হেলাল হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাবঞ্চিত শিশুর ভবিষ্যৎ: দায় কার? বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শঙ্কা: জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির অভাবে চতুর্মুখী সংকটে কৃষক সংসদের নিয়মে এখনো অভ্যস্ত নন নতুন এমপিরা, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ছন্দ অফিসে আপনার কাজ সামলাবে আপনারই ‘ডিজিটাল যমজ’ দেশের কোটি কোটি ডলার পাচার! : কারা খেলল এই ভয়ংকর খেলা — আর কীভাবে ফিরবে সেই সম্পদ? ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২১২ টাকা জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ছাড়িয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইনেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযান কেন চান খামেনির উপদেষ্টা?

Reporter Name / ৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মহসেন রেজায়ি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রণালিতে অবরোধ সৃষ্টি করা মার্কিন নৌবহরগুলো বর্তমানে পুরোপুরি তেহরানের নিশানায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকান সেনারা ইরানে স্থলপথে আক্রমণ চালালে তেহরান বিষয়টিকে স্বাগত জানাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি, যার পেছনে রয়েছে বন্দি করে মুক্তিপণ আদায়ের এক অভিনব কৌশল।

রণতরি ডোবানোর কড়া হুমকি

সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহসেন রেজায়ি ওয়াশিংটনের প্রতি কঠোর বার্তা দেন। এই কৌশলগত সামুদ্রিক রুটে মার্কিন বাহিনীর খবরদারি করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হরমুজ প্রণালির ‘পাহারাদার’ হওয়ার দায়িত্ব কি ট্রাম্পের বা মার্কিন সেনাবাহিনীর?

সাবেক এই আইআরজিসি প্রধান দাবি করেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ সেখানে থাকা সব আমেরিকান যুদ্ধজাহাজের দিকে তাক করে ইরানি লঞ্চারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমেরিকার জাহাজগুলো তাদের প্রথম আঘাতেই সলিলসমাধি লাভ করবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো মার্কিন নৌযানকে ওই এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না।

স্থল অভিযানের আকাঙ্ক্ষা ও জিম্মি পরিকল্পনা

আইআরজিসির ভেতরে কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত রেজায়ি অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর স্থল আক্রমণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, আমেরিকা এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ইরানের জন্যই লাভজনক হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, স্থলপথে হামলা হলে ইরানি যোদ্ধারা হাজার হাজার আমেরিকান সেনাকে বন্দি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তীতে সেই জিম্মিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার শর্ত হিসেবে একেকজন সেনার বিপরীতে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার করে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হবে।

যুদ্ধবিরতি ও দর-কষাকষির শর্ত

টানা ছয় সপ্তাহ জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার পর বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুই সপ্তাহের যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, তার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোর বিরোধী খামেনির এই উপদেষ্টা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

রেজায়ি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটন নয়, বরং তেহরানই শর্ত নির্ধারণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষেত্রে ইরানি কর্মকর্তাদের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি

১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির নেতৃত্ব দেওয়া এই অভিজ্ঞ সামরিক ব্যক্তিত্ব তার সাক্ষাৎকারের শেষে ওয়াশিংটনকে আরও একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, আমেরিকা অবিরাম ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে ভয় পেলেও ইরান এর জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে লড়াই করতে তারা অভ্যস্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category